সম্মানিত প্রতিষ্ঠান প্রধান সহ সকল শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহোদয়দের জ্ঞাতার্থে :
আপনারা অবগত রয়েছেন যে গত ২৮ মার্চ ২০২১ খ্রী তারিখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি কৃত প্রজ্ঞাপন মূলে জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২১ অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহে কর্মরত সহকারী গ্রন্থাগারিক দের সহকারী শিক্ষক ( গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) নামকরণ করা হয়।
এতে গ্রন্থাগার পেশাজীবী শিক্ষক স্যারদের তথ্যবিজ্ঞান সমৃদ্ধ মানবিক প্রজন্ম গড়তে, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গ্রন্থাগার তথা লাইব্রেরি মূখী করতে আরো দায়িত্বশীল করেছে।
কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মনে রাখা প্রয়োজন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী শিক্ষক দের বিদ্যালয়ের শ্রেণী রুটিনে লাইব্রেরি ঘন্টা নামে বাংলা, ইংরেজি, গণিত বিষয়ের মত প্রতি শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য সপ্তাহে ০১পিরিয়ড রাখার নির্দেশ দেয়া রয়েছে। প্রজ্ঞাপন সংযুক্ত।
কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান দের গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ের ধারণা কম থাকায় এ বিষয়ে কর্মরত শিক্ষক দের গুরুত্ব দিতে চান না বা অবহেলা র দৃষ্টিতে দেখেন। মনে রাখবেন গ্রন্থাগার হলো বিদ্যালয়ের প্রাণ বা হার্ট। আর সহকারী গ্রন্থাগারিক পদ সৃষ্টির আগে প্রতিষ্ঠান প্রধান বা অন্য যে কেহ এ লাইব্রেরি দেখাশোনা করতেন। শিক্ষা বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি , বাংলাদেশের গ্রন্থাগার পেশাজীবীদের প্রাচীন সংগঠন ল্যাব নেতৃবৃন্দের যৌথ প্রচেষ্টায়
১০১২ সালে পদ সৃষ্টি ২০১৩ সাল থেকে নিয়োগ ২০২১ সালে সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান) নামকরণ NTRCA মাধ্যমে নিয়োগ পর্যায়ক্রমে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করে মানবিক প্রজন্ম গড়তে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
তারা যোগদান শুরু থেকেই ১০ গ্রেড প্রাপ্ত এবং তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী যা বি এড সমমান। যা অন্যান্য বিষয়ের সহকারী শিক্ষক রা বি এড ডিগ্রী অর্জন না করলে এক ধাপ নিচের গ্রেডে।
কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাশ রুটিনে লাইব্রেরি আওয়ার ক্লাস নেই ।
কোন কোন প্রতিষ্ঠান প্রধান রা অফ পিরিয়ড বা টিফিন সময়ে বা বিদ্যালয়ের ক্লাশের একবারে শেষে লাইব্রেরি খোলা রাখা বিষয়ে অযৌক্তিক তথা অন্যায় দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে চান। (সকল প্রতিষ্ঠান নয়)
যা শ্রেণি রুটিনে লাইব্রেরি আওয়ার ক্লাস না রাখার কারণে হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠান প্রধান তথা অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষক দের তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অধিক ধারণা নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের যা লাভ হবে:
১। শিক্ষার্থীরা মানসিক ও সামাজিক যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
২। মনযোগী হবে , অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে।
৩। দেশ বিদেশের প্রতিযশসা নামকরা গুণি মানুষের সাথে পরিচিত হবে। (বই পড়ার মাধ্যমে)
৪। ছোট কাল থেকে পাঠাভ্যাস গড়ে উঠবে যা ডিজিটাল আসক্তি কমে আসবে।
৫। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে পারবে।
প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কাছ থেকে
আমাদের আবেদন সমূহ:
১। শ্রেণি রুটিনে লাইব্রেরি আওয়ার ক্লাস অন্তর্ভুক্ত করা।
২। বার্ষিক বাজেটে গ্রন্থাগার এর জন্য যে বরাদ্দ থাকে তা যথাযথা ব্যাবহার করা।
৩। বিদ্যালয়ের অন্যান্য বিষয়ের শিক্ষকদের ন্যায় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা লাভ করা।
৪। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আসবাবপত্র রাখা।
সমেশ চাকমা
সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান)
রুমা উপজাতীয় আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান।



0 Comments